নিরাপদ ও সাশ্রয়ী

Sun, Sep 27, 2020
Shayan F Rahman

সমকাল: জ্বালানি হিসেবে দেশের বাজারে এলপিজির সম্ভাবনা কতটুকু?

শায়ান এফ রহমান: ২০১৫ সালেও বাংলাদেশে এলপিজি অপারেটর কোম্পানির সংখ্যা ছিল ৫ থেকে ৬টি এবং ৩০ লাখ বাসাবাড়িতে বছরে প্রায় আড়াই লাখ টন এলপিজি ব্যবহার করা হতো। ২০২০ সালে এসে বাজারে ২৭টি এলপিজি অপারেটর কাজ করছে। ২০২০ সালের শেষ নাগাদ এলপিজি ব্যবহারের চাহিদা বেড়ে প্রায় ১১ লাখ টনের মতো হবে। বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখের বেশি বাসাবাড়িতে প্রতিদিনের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে এলপিজি। আমাদের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মধ্যে বছরে এ চাহিদা বেড়ে দাঁড়াবে ২২ লাখ টন। এখন শুধু বাসাবাড়িতে যে এলপিজি ব্যবহার হচ্ছে তা নয়, বড় কারখানা, হোটেল-রেস্তোরাঁ, শিল্প খাত ও যানবাহনে জ্বালানি হিসেবে এর বহুল ব্যবহার হচ্ছে। এটি নিরাপদ ও সাশ্রয়ী জ্বালানি।

সমকাল: বেক্সিমকো বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনের সঙ্গে ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে এলপিজি বিক্রির ব্যবস্থা করেছে। গ্রাহকরা নতুন ধরনের এ জ্বালানিকে কীভাবে গ্রহণ করেছেন।

শায়ান এফ রহমান: অটোগ্যাস বা এলপিজি বিশ্বজুড়ে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি হিসেবে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও প্রশংসিত। সম্প্রতি পদ্মা অয়েল কোম্পানি ও মেঘনা পেট্রোলিয়ামের সঙ্গে তাদের নিবন্ধিত ফিলিং স্টেশনে এলপিজি পাম্প স্থাপন ও বিক্রয়ের চুক্তি করেছে বেক্সিমকো এলপিজি। এ চুক্তির মাধ্যমে আমরা সারাদেশে অটোগ্যাসচালিত যানবাহনে ব্যবহারের জন্য পরিবেশবান্ধব এলপিজির দ্রুত প্রবেশের বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারব। শিগগিরই অটোগ্যাস খাতে অপ্রতিরোধ্য হিসেবে বেক্সিমকো এলপিজি নিজেদের অবস্থান প্রকাশ করবে বলে আমরা আশাবাদী। এ মুহূর্তে বেক্সিমকো এলপিজির ৫০০টি ফ্রাঞ্চাইজি লাইসেন্স ও ২৫টি কনভার্সন ওয়ার্কশপ লাইসেন্স রয়েছে, যা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়ে গেছে। গ্রাহকদের কাছ থেকে অনেক বেশি সাড়া পাচ্ছি আমরা। গাড়িতে অটোগ্যাস ব্যবহারের নানাবিধ সুবিধাই একে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত করে তুলেছে। যেমন এর ক্যালোরিফিক ভ্যালু বেশি থাকায় অকটেন ও পেট্রোলের প্রায় সমান মাইলেজ এবং পারফরম্যান্স দেয় যেখানে খরচ পেট্রোলের চেয়ে কম। বাংলাদেশে গাড়ির জ্বালানি হিসেবে প্রচলিত সিএনজির চেয়ে অটোগ্যাসের পারফরম্যান্স উন্নততর এবং কনভার্সনেও খরচ প্রায় ৫০ শতাংশ কম। অকটেনের মতো তরল হওয়ায় ইঞ্জিনের কোনো ক্ষতি এবং অতিরিক্ত হিট উৎপন্ন করে না। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, এলপিজি গ্রিন ফুয়েল। এতে বায়ুদূষণ হয় না। ফলে পরিবেশের ক্ষতি হয় না।

সমকাল: বেক্সিমকো এলপিজি গ্রাহকদের ফাইবার গ্লাসের সিলিন্ডার সরবরাহ করছে। এ সিলিন্ডারের সুবিধা কী? নতুন ধরনের কোনো সিলিন্ডার আনার পরিকল্পনা আছে কি?

শায়ান এফ রহমান: ইউরোপিয়ান স্ট্যান্ডার্ড ডিজাইন এবং স্পেসিফিকেশন অনুসারে তৈরি আমাদের ফাইবার গ্লাস সিলিন্ডার যেমন টেকসই, তেমন নিরাপদ। এই কম্পোজিট সিলিন্ডারগুলোতে গ্লাস ফাইবার ও রেজিনের ৩টি লেয়ার থাকে, যা সিলিন্ডারকে দেয় অভাবনীয় শক্তি ও স্থায়িত্ব। এছাড়া এ সিলিন্ডারের কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা বাজারের অন্য সিলিন্ডার থেকে আলাদা করেছে। বেক্সিমকো স্মার্ট সিলিন্ডারে গ্যাসের লেভেল বাইরে থেকে দেখা যায়। এছাড়া সাধারণ সিলিন্ডারের তুলনায় প্রায় অর্ধেক ওজন এবং মরিচা পড়ে না। এটি শতভাগ বিস্ম্ফোরণরোধী। আমেরিকা, ফ্রান্স, তুরস্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রীত সিলিন্ডার কম্পোজিট গ্লাস ফাইবারের তৈরি। তাই নিরাপত্তা নিয়ে কোনো আপস না করে আমরা ফাইবার গ্লাসের সিলিন্ডার বহির্বিশ্ব থেকে আমদানি করে আনি। এ মুহূর্তে অন্য নতুন কোনো সিলিন্ডার আনার পরিকল্পনা নেই। তবে ক্রেতার নির্দিষ্ট কোনো চাহিদা থাকলে বেক্সিমকো এলপিজি তা নিয়ে অবশ্যই ভেবে দেখবে। সেটি আবার গুণগত মানে আপস করে নয়।

সমকাল: এলপিজি গ্যাস একটি দাহ্য পদার্থ। পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতা পর্যায়ে এর নিরাপত্তার জন্য আপনার কোম্পানি কোন ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে?

শায়ান এফ রহমান: বেক্সিমকো এলপিজি সব সময়ই স্পষ্টভাবে অবৈধ ও অসাধু নীতি থেকে সরে আসতে পরিবেশক ও খুচরা ব্যবসায়ীদের আহ্বান জানিয়ে আসছে। এলপিজি একটি দাহ্য পদার্থ। এই পণ্য নিয়ে ব্যবসা করতে গেলে বাংলাদেশের এক্সপ্লোসিভ আইন ও নিয়ম অনুযায়ী অনেক ধরনের প্রস্তুতি ও অনুমোদন প্রয়োজন হয়। এই অনুমোদন ছাড়া কারও সঙ্গে বেক্সিমকো এলপিজি ব্যবসায়িক সম্পর্কে আবদ্ধ হয় না।

সমকাল: সাধারণ ভোক্তার নাগালে এলপিজি পৌঁছে দিতে বেক্সিমকো এলপিজির উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাই।শায়ান এফ রহমান: বেক্সিমকো এলপিজি সমগ্র বাংলাদেশে গড়ে তুলেছে এর শক্তিশালী ডিসট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক, যাতে ক্রেতারা চাহিদা অনুযায়ী হাতের নাগালেই বেক্সিমকো স্মার্ট সিলিন্ডার পেতে পারে। এছাড়া আমাদের হোম ডেলিভারি সার্ভিস চালু রয়েছে, যাতে ঘরে বসেই গ্রাহকরা পণ্য বুঝে নিতে পারে।

সমকাল: আমদানিকারক বা সরবরাহকারী কোম্পানির সঙ্গে পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের সম্পর্ক কোন নীতিমালার ভিত্তিতে হওয়া উচিত?

শায়ান এফ রহমান: আমাদের এখানে এলপিজির দাম আন্তর্জাতিক বাজারের দামের ওপর নির্ভরশীল। আমাদের জানা মতে, ইতোমধ্যে বিইআরসি খুচরা পর্যায়ে দাম নির্ধারণ করার জন্য একটি নীতিমালা খসড়া করেছে, যা এখনও প্রক্রিয়াধীন। এটি বাস্তবায়ন হলে খুব শিগগিরই ভোক্তা সাধারণ সুফল পাবে।

সমকাল: জ্বালানি খাতে বেক্সিমকোর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চাই।

শায়ান এফ রহমান: আমাদের সিলিন্ডার পুরোপুরিভাবে প্রযুক্তিনির্ভর এবং অন্যদের চেয়ে আলাদা। বেক্সিমকো স্মার্ট সিলিন্ডার গ্রাহকদের সন্তুষ্টি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। আমরা নতুন করে সিলিন্ডার ম্যানুফ্যাকচারিং প্লান্ট স্থাপন করতে যাচ্ছি। গৃহস্থালি ছাড়াও এলপিজি খাতে আমাদের প্রসার ঘটছে। অন্যদিকে দেশের চাহিদা মিটিয়ে আমদানি করা বাল্ক্ক এলপিজি রপ্তানির মাধ্যমে আমরা অর্থনীতিকে আরও বেগবান করতে চেষ্টা করছি।



সাক্ষাৎকার গ্রহণ: শেখ আবদুল্লাহ




Source: https://samakal.com/tp-somridhhi/article/200957783/%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A6%A6-%E0%A6%93-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%9F%E0%A7%80-%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%8F%E0%A6%AB-%E0%A6%B0%E0%A6%B9%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8

Back to News